জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা - Jamia Nesaria Islamia Madrasha & Orphanage
সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি :
❖নতুন শিক্ষাবর্ষে নূরানী মক্তব, হিফজুল কুরআন ও কিতাব বিভাগে সীমিত আসনে ছাত্র ভর্তি চলছে।❖৩১৩ জন বদরি কাফেলা — আজীবন দাতা সদস্য প্রকল্পে শরিক হয়ে সাদাকায়ে জারিয়ার অংশীদার হোন।❖সমাজসেবা অনুমোদিত এতিমখানা শাখায় এতিম ও দরিদ্র ছাত্রদের শতভাগ ফ্রি পড়ার সুব্যবস্থা রয়েছে।
শিক্ষা বিভাগ — পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক বিবরণী ও পাঠ্যক্রম
← হোমপেজে ফিরে যান
জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা
শিক্ষা বিভাগ

শিক্ষা বিভাগ

জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা

প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দঠিকানা: মরকুন, টঙ্গী, গাজীপুর।

“কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আদর্শ মানুষ গড়ার প্রত্যয়।”

শিক্ষাব্যবস্থার পরিচিতি

জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে দ্বীনি শিক্ষার প্রসার এবং আদর্শ মানুষ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত পরিচালনা পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জামিয়ার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এ প্রতিষ্ঠানে পবিত্র কুরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকাহ, আকাইদ, ইসলামী ইতিহাস ও আদব-আখলাকের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সাধারণ শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা, জ্ঞানচর্চার পরিধি বিস্তৃত করা এবং বহুমুখী প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, ভাষা-সাহিত্য এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্য, আদর্শবান ও সমাজের কল্যাণে নিবেদিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই জামিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।

১। মক্তব বিভাগ

প্রাথমিক দ্বীনি ও সাধারণ শিক্ষা
ক.

ক. অনাবাসিক মক্তব বিভাগ

জামিয়ার নিকটে বসবাসরত ৬–৯ বছর বয়সী শিশুদের দ্বীনি শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্যে এ বিভাগ পরিচালিত হয়। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে বাংলা, আরবি ও ইংরেজি বর্ণপরিচিতি, নামাজের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় কিছু দোয়া-দরুদ শিক্ষা দেওয়া হয়।

কোর্সের সময়কাল: এক বছর।
খ.

খ. আবাসিক আদর্শ নূরানি মক্তব বিভাগ

কোমলমতি শিশুদের ধর্মীয় আদর্শ সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এ বিভাগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর মাধ্যমে সুবিন্যস্ত শ্রেণিপদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়।

এ বিভাগে আরবি বর্ণমালার পরিচয় থেকে শুরু করে সহিহভাবে কুরআন তেলাওয়াত, নামাজ, প্রয়োজনীয় দোয়া-দরুদ, জরুরি মাসআলা-মাসায়েল, ৪০ হাদিস, আদব-কায়দা ও আমল-আখলাক শেখানো হয়। পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ের (১ম–৩য় শ্রেণি পর্যন্ত) বাংলা, অঙ্ক ও ইংরেজি শিক্ষা দেওয়া হয়।

কোর্সের সময়কাল: দুই বছর।

২। হিফজ বিভাগ

তাহফিজুল কুরআন ও ইয়াদ
ক.

ক. হিফজুল কুরআন বিভাগ

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুদক্ষ হাফেজ সাহেবদের সার্বক্ষণিক দেখাশোনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পবিত্র কুরআনুল কারিম মুখস্থ করার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। আকর্ষণীয় ও ফলপ্রসূ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের হিফজ সম্পন্ন করানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাশাপাশি জরুরি দোয়া-দরুদ, প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল, আদব-কায়দা ও আমল-আখলাক শেখানো হয়। হিফজ সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীদের কিতাব বিভাগে ভর্তির সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়।

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সময়কাল: অনূর্ধ্ব তিন বছর।
খ.

খ. হিফজ রিভিশন বিভাগ

হিফজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের পবিত্র কুরআন পূর্ণরূপে পুনরাবৃত্তি, নির্ভুলভাবে মুখস্থ ধরে রাখা এবং তেলাওয়াত সুন্দর ও শ্রুতিমধুর করার লক্ষ্যে এ বিভাগ পরিচালিত হয়।

অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ তেলাওয়াত, সাবলীলতা ও কুরআন হিফজের দৃঢ়তা বৃদ্ধির জন্য যত্নসহকারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হয়।

৩। কিতাব বিভাগ

ইবতেদায়ী থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান)

কিতাব বিভাগে ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ধারাবাহিক পাঠদানের ব্যবস্থা রয়েছে। ইবতেদায়ী (৪র্থ শ্রেণি) থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স/এম.এ. সমমান) পর্যন্ত ইসলামী ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে পাঠদান করা হয়।

শিক্ষার্থীদের দ্বীনি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা, বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি, উন্নত চরিত্র গঠন এবং সমাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কিতাব বিভাগের শিক্ষাস্তর ও সময়কাল

১.
ইবতেদায়ী/প্রাথমিক: বিশেষ জামাত ও তাইসির
দুই বছর।
২.
মুতাওয়াসসিতা/মাধ্যমিক: মিজান, নাহবেমির ও হেদায়াতুন্নাহু
তিন বছর।
৩.
সানাবিয়্যাহ/উচ্চ মাধ্যমিক: কাফিয়া ও শরহে বেকায়া
দুই বছর।
৪.
ফজিলত/স্নাতক: হেদায়া, জালালাইন ও মেশকাত
দুই বছর।
৫.
তাকমিল (মাস্টার্স/এম.এ. সমমান): দাওরায়ে হাদিস
এক বছর।

বোর্ড ও পরীক্ষা

▪ জামিয়া বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)-এর অন্তর্ভুক্ত। বেফাকভুক্ত শ্রেণিগুলোতে নিজস্ব মারকাযে বার্ষিক পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

▪ এ ছাড়া আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর অধীনে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স/এম.এ. সমমান) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে।

৪। মাদানি নেসাব বিভাগ

শিক্ষাবর্ষ: ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষ।

জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার মাদানি নেসাব বিভাগে শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন, আরবি কিতাব অনুধাবন এবং অনুবাদ ও কথোপকথনের যোগ্যতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশেষ পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়। মাদানি নেসাব ও কাদিম নেসাবের সমন্বয়ে প্রণীত সিলেবাস অনুযায়ী এ বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

মাদানি নেসাব বিভাগের বৈশিষ্ট্য ও শিক্ষার লক্ষ্য

১।

মাদানি নেসাব ও কাদিম নেসাবের সমন্বিত সিলেবাস

মাদানি নেসাব ও কাদিম নেসাবের সমন্বয়ে প্রণীত সিলেবাস অনুযায়ী পাঠদান করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষা ও দ্বীনি জ্ঞানের ভিত্তি সুদৃঢ় করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

২।

অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর মাধ্যমে পাঠদান

মাদানি নেসাবের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়, যাতে তারা সুশৃঙ্খল ও ফলপ্রসূ পদ্ধতিতে পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করতে পারে।

৩।

প্রথম বর্ষে আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন

প্রথম বর্ষে নিয়মিত অনুশীলন ও মেহনতের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষা পঠন, লিখন ও কথোপকথনে দক্ষতা অর্জনের যোগ্যতা লাভ করে।

৪।

আরবি ও বাংলা অনুবাদে দক্ষতা অর্জন

নিজস্ব যোগ্যতা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরবি থেকে বাংলায় এবং বাংলা থেকে আরবিতে অনুবাদ করার সক্ষমতা অর্জন করে।

৫।

দ্বিতীয় বর্ষে আরবি কিতাব অনুধাবনের যোগ্যতা

দ্বিতীয় বর্ষের পাঠ সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা যেকোনো আরবি কিতাব বুঝে পড়ার যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রস্তুত হয়।

৬।

বেফাক বোর্ডের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)-এর অধীনে নাহবেমির জামাতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

মাদানি নেসাব বিভাগের মূল লক্ষ্য

মাদানি নেসাব বিভাগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষায় পারদর্শী করে তোলা, আরবি কিতাব সরাসরি বুঝে পড়ার যোগ্যতা সৃষ্টি করা এবং অনুবাদ ও কথোপকথনে দক্ষ করে গড়ে তোলা। সমন্বিত সিলেবাস, অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করাই এ বিভাগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

৫। জামিয়ার সিলেবাস ও পাঠ্যবিষয়

জামিয়ার সিলেবাসে দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি ভাষা, সাহিত্য, সাধারণ জ্ঞান, বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতার বহুমুখী বিকাশের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ক. কুরআন ও তাফসিরবিষয়ক শিক্ষা

  • •কুরআন তেলাওয়াত
  • •কুরআন তরজমা
  • •তাফসির
  • •উসুলে তাফসির

খ. হাদিস ও ফিকাহবিষয়ক শিক্ষা

  • •হাদিসে নববি
  • •ইলমে ফিকাহ
  • •উসুলে হাদিস
  • •উসুলে ফিকাহ

গ. আকাইদ ও ইসলামী বিষয়াবলি

  • •আকাইদ
  • •আদব-আখলাক
  • •সীরাত
  • •ইসলামী ইতিহাস
  • •তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব ও মতবাদশাস্ত্র

ঘ. আরবি ভাষা ও সাহিত্য

  • •আরবি ব্যাকরণ: নাহু-সরফ
  • •আরবি সাহিত্য
  • •অলংকারশাস্ত্র

ঙ. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

  • •বাংলা সাহিত্য
  • •বাংলা ব্যাকরণ
  • •বাংলা রচনা

চ. ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষা

  • •প্রয়োজনীয় ইংরেজি
  • •উর্দু ভাষা ও সাহিত্য
  • •ফারসি ভাষা ও সাহিত্য

ছ. সাধারণ শিক্ষা

  • •অঙ্ক
  • •ভূগোল
  • •সমাজপাঠ
  • •বিজ্ঞান

জ. যুক্তিবিদ্যা ও অন্যান্য বিষয়

  • •তর্কশাস্ত্র
  • •তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব ও মতবাদশাস্ত্র
  • •কারিগরি শিক্ষা
  • •উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যা
দ্রষ্টব্য: বিষয়ভিত্তিক পাঠদান শ্রেণি ও বিভাগ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

৬। ছাত্র প্রশিক্ষণ বিভাগ

পাঠ্যসূচির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে জামিয়ায় ছাত্র প্রশিক্ষণের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, বাকশক্তি, লেখনীর দক্ষতা এবং সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে এ বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আল বালাগ ছাত্র পাঠাগার

ক. ছাত্র পাঠাগার

পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি বিস্তারের লক্ষ্যে বিভিন্নমুখী জ্ঞান-বিজ্ঞানের পুস্তক ও পত্র-পত্রিকাসমৃদ্ধ ‘আল বালাগ ছাত্র পাঠাগার’ নামে একটি পাঠাগার রয়েছে।

শিক্ষানুরাগী ও ছাত্রবন্ধু মহানুভব ব্যক্তিদের আর্থিক অনুকূল্য লাভে সমর্থ হলে পাঠাগারটি আরও সমৃদ্ধ হবে।

সাপ্তাহিক বক্তৃতা অনুশীলন

খ. বক্তৃতা প্রশিক্ষণ মজলিস

ইলমে দ্বীন অর্জনের পর দাওয়াত ও তাবলিগের দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের বাকশক্তির বিকাশ ঘটানো এবং আকর্ষণীয়ভাবে দাওয়াত পেশের যোগ্যতা অর্জনের উদ্দেশ্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে সাপ্তাহিক বক্তৃতা প্রশিক্ষণ মজলিসের সুষ্ঠু ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

বাংলা ও আরবি পত্রিকা ‘আল বালাগ’

গ. দেয়াল পত্রিকা

লেখালেখির এ যুগে শিক্ষার্থীদের যোগ্য লেখক ও কলমসৈনিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘আল বালাগ’ নামে বাংলা ও আরবি পত্রিকা প্রকাশের ব্যবস্থা রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে এর মাধ্যমে নিজেদের রচিত প্রবন্ধ ও কবিতা প্রকাশ করে থাকে। এ কার্যক্রম তাদের সৃজনশীলতা, ভাষাগত দক্ষতা ও সাহিত্যচর্চার বিকাশে সহায়তা করে।

৭। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ রূপরেখা

জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ, যুগোপযোগী ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দ্বীনি জ্ঞান, ভাষাগত দক্ষতা, লেখনীর যোগ্যতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত কার্যক্রমগুলো পর্যায়ক্রমে চালু ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

১।

ইফতা বিভাগ

উচ্চতর ফিকহি জ্ঞান অর্জন এবং ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইফতা বিভাগ চালুর পরিকল্পনা।

২।

তাফসির বিভাগ

পবিত্র কুরআনের গভীর জ্ঞান ও তাফসিরশাস্ত্রে উচ্চতর অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টি।

৩।

হাদিস বিভাগ

হাদিসশাস্ত্রে উচ্চতর জ্ঞানার্জন ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ।

৪।

আদব ও তারিখ

ইসলামী সাহিত্য, আরবি আদব এবং ইসলামের ইতিহাসচর্চার উন্নয়ন।

৫।

লেখালেখি কোর্স

শিক্ষার্থীদের প্রবন্ধ, নিবন্ধ, কবিতা ও সৃজনশীল লেখালেখিতে দক্ষ করে তোলার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।

৬।

কম্পিউটার প্রশিক্ষণ

আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করা এবং কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা।

৭।

সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ

সংবাদ লেখা, প্রতিবেদন তৈরি, সম্পাদনা ও সাংবাদিকতার মৌলিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান।

৮।

মুকালামাতুল আরাবিয়্যাহ ও ইংরেজি কথোপকথন কোর্স

শিক্ষার্থীদের আরবি ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলা, যোগাযোগ করা এবং ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কোর্স চালুর পরিকল্পনা।

৮। শিক্ষার লক্ষ্য ও প্রত্যয়

জামিয়ার শিক্ষাকার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত, আদর্শবান, নৈতিকতাসম্পন্ন ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।

এ লক্ষ্যে—

বিশুদ্ধ দ্বীনি জ্ঞান ও ইসলামী আদর্শের চর্চা বৃদ্ধি করা।
উন্নত চরিত্র, শৃঙ্খলাবোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা।
ভাষাগত দক্ষতা ও সাধারণ জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করা।
শিক্ষার্থীদের বক্তৃতা, লেখালেখি ও সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটানো।
আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করা।
সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে সক্ষম দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তোলা।

উপসংহার

জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন গঠন এবং শিক্ষার্থীদের বহুমুখী যোগ্যতা বিকাশের প্রত্যয়ে পরিচালিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মক্তব, হিফজ, হিফজ রিভিশন, কিতাব, মাদানি নেসাব ও ছাত্র প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, চরিত্র ও দক্ষতার সমন্বিত বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দ্বীনি শিক্ষার উৎকর্ষ সাধন এবং প্রয়োজনীয় সাধারণ ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে আদর্শ মানুষ গড়ে তোলাই জামিয়ার অঙ্গীকার।

জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা

কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আদর্শ মানুষ গড়ার প্রত্যয়।

ভর্তি আবেদন করুন