بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
‘৩১৩ জন বদরি কাফেলা’
বদরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ আজীবন দাতা সদস্য উদ্যোগ
"وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنتُمْ أَذِلَّةٌ ۖ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ"
— "আর নিশ্চয়ই আল্লাহ বদরে তোমাদের সাহায্য করেছিলেন যখন তোমরা দুর্বল ছিলে। অতএব আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা শোকরগুজার হতে পার।" (সূরা আলে ইমরান: ১২৩)
জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার সার্বিক উন্নয়ন, দ্বীনি শিক্ষার প্রসার এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রাকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ‘৩১৩ জন বদরি কাফেলা’ নামে ৩১৩ জন আজীবন দাতা সদস্যের একটি মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, দ্বীনি শিক্ষার খেদমতে নিবেদিতপ্রাণ দানশীল ও শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিবর্গকে ঐক্যবদ্ধ করে জামিয়ার উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্মিলিতভাবে অবদান রাখা।
৩১৩ সদস্যবিশিষ্ট কাফেলার পবিত্র আসন বিন্যাস
জামিয়ার উন্নয়নকল্পে এই সংখ্যাটি নির্ধারিত—এর কম বা বেশি নয়।
নিচের প্রতীকী আসনগুলো থেকে আপনার পছন্দের বা কাঙ্ক্ষিত আসন নম্বর নির্বাচন করে সরাসরি আবেদন ফরম পূরণ করতে পারেন:
আপনি ৩১৩ কাফেলার আসন নং #313 নির্বাচন করেছেন
এই পুণ্য আসনে নিজের অথবা পিতা-মাতার নামে তালিকাভুক্ত হতে এখনই নিচে আবেদন ফরম জমা দিন।
১. কাফেলাটি ৩১৩ সদস্যবিশিষ্ট হওয়ার রহস্য
হাজারো রহস্যে ঘেরা এই মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টা ও একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক মহান আল্লাহ। তিনি একক, অদ্বিতীয় ও বিজোড়। তিনি বিজোড় ভালোবাসেন। ‘৩১৩’ একটি ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক সংখ্যা। এই বিজোড় সংখ্যাটি প্রভূত বরকতময়, মহিমামণ্ডিত ও নানাবিধ রহস্যে ঘেরা।
বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবিদের সংখ্যা ৩১৩
ইসলামের প্রথম আত্মত্যাগী যুদ্ধ বদর। ঐতিহাসিক এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবিদের সংখ্যা ৩১৩। নিরস্ত্র এই ৩১৩ জন সাহাবিকে সাহায্য করতে নেমে এসেছিলেন পাঁচ হাজার ফেরেশতা। আল্লাহর সাহায্য ও রাসুলের নেতৃত্বে এই যুদ্ধে এক মহাবিজয় ও সাফল্য অর্জিত হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, এই ৩১৩ জনের সব গুনাহ মাফ, তাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব।
৩১৩ সংখ্যা বিজয়ের চিরন্তন প্রতীক (বাদশাহ তালুত)
বারা বিন আজেব (রা.) বলেন, আমরা সাহাবায়ে কেরাম আলোচনা করতাম যে, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবিদের সংখ্যা এবং জালুতের বিরুদ্ধে লড়াইকারী বিজয়ী বাদশাহ তালুতের সৈন্যসংখ্যা একই পরিমাণ তথা ৩১৩ জন। অর্থাৎ ইসলামের ইতিহাসে ৩১৩ হলো চূড়ান্ত বিজয়ের এক ঐশী শুভ লক্ষণ।
৩১৩ একটি বরকতময় সংখ্যা ও দোয়ার পরীক্ষিত অসিলা
৩১৩ সংখ্যাটি নিঃসন্দেহে বরকতময়। প্রখ্যাত আলেম আল্লামা দাওয়ানি (রহ.) বলেছেন, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবিদের নামের অসিলায় আল্লাহর সমীপে দোয়া করলে তা কবুল হয়। উদ্দেশ্য সফল হয়, জটিল রোগ-ব্যাধি ও বালা-মুসিবত দূর হয়। এটি যুগ যুগ ধরে ওলামায়ে কেরামের পরীক্ষিত আমল।
ইমাম মাহদি (আ.)-এর সেনা অফিসার ৩১৩ জন
কিয়ামতের পূর্বে আবির্ভূত হবেন ইমাম মাহদি (আ.)। ইসলাম ও মানবতার শত্রু ইহুদি-খ্রিস্টান ও বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করে তিনি বিজয়ী হবেন। তাঁর বিশেষ বিপ্লবী বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে থাকবেন বদর যুদ্ধের সৈন্যসংখ্যার সমপরিমাণ—অর্থাৎ ঠিক ৩১৩ জন নিবেদিতপ্রাণ সেনা অফিসার।
২. কেন এই আয়োজন?
মুহতারাম শুভানুধ্যায়ী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাই ও বোনেরা,
আপনারা জানেন, জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আজ একটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এটি ইসলামী সভ্যতা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের দাওয়াত ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং ইসলামবিরোধী শক্তির মোকাবিলায় দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে—ইনশাআল্লাহ, এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন আপনাদের আন্তরিক দোয়া, ভালোবাসা, সর্বাত্মক সহযোগিতা ও ত্যাগ। দরকার বদরি কাফেলার মতো আত্মত্যাগী ও একনিষ্ঠ একদল সুধী মুমিন মুসলমান।
"الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ"
হাদিস শরিফে এসেছে, জান্নাত কারও আমলের বিনিময়ে নয়; বরং আল্লাহর রহমতের অসিলায় মিলবে। পৃথিবীতে যে যার সাদৃশ্য ও মহব্বত অবলম্বন করবে, পরকালে তাদের হাশর-নাশর হবে একসঙ্গে।
তাই ‘জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা’-এর উন্নয়নকল্পে ‘বদরি কাফেলা’ নামে আজীবন দাতা সদস্যদের জন্য ‘৩১৩’ এই বরকতময় সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছে, এর কম বা বেশি নয়। সুতরাং যারা বদরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই জামিয়ার উন্নয়ন প্রচেষ্টায় শরিক হতে ইচ্ছুক, আমরা তাদের স্বাগত জানাই।
৩. সদস্যদের প্রতি আহ্বান ও ৪. সদস্য হওয়ার নিয়ম
জানমালের কোরবানি পেশ
একমাত্র আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির লক্ষ্যে নিজের জানমালের পবিত্র কোরবানি পেশ করা এবং দ্বীনের তরে সম্পদ ব্যয়ে অগ্রণী হওয়া।
মাদরাসার খেদমতে অগ্রণী ভূমিকা
মাদরাসার খেদমত ও উন্নতি সাধনকে নিজের ব্যক্তিগত দায়িত্ব মনে করে সর্বাবস্থায় জামিয়ার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা।
পরিবারকে দ্বীনের ওপর পরিচালনা
প্রত্যেক সদস্য নিজেকে এবং নিজের পরিবার ও পরবর্তী প্রজন্মকে সার্বিকভাবে দ্বীনের শাশ্বত বিধানের ওপর পরিচালিত করার চেষ্টা করা।
আজীবন দাতা সদস্য ফরম পূরণ করে মাদরাসার অফিশিয়াল রেজিস্ট্রি খাতায় নাম লিখিয়ে ‘বদরি কাফেলা’-এর তালিকাভুক্ত হওয়া।
মাদরাসার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রত্যেক সদস্য প্রতি বছর ন্যূনতম ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা অনুদান প্রদান করা। অথবা আপনি ইচ্ছা করলে প্রতি মাসে সামর্থ্যমতো নির্দিষ্ট হারে (যেমন: মাসিক ২৫০/- বা তদূর্ধ্ব) অনুদান প্রদান করতে পারেন।
মৃত পিতা-মাতা বা প্রিয়জনদের মাগফিরাত ও চিরস্থায়ী সদকায়ে জারিয়ার নিয়তে ফরম পূরণ করে এই কাফেলার সদস্যপদ গ্রহণ করা যাবে।
অনুদান প্রেরণের অফিশিয়াল একাউন্টসমূহ
01716296379
হিসাব: Jamia Nesaria Islamia Madrasha
4403002011838
হিসাব: Jamia Nesaria Islamia Madrasha
41160310003046
অনুদান পাঠানোর পর মাদরাসা অফিসে ফোন করে (01716296379) নিশ্চিত করে মানি রিসিট ও সনদ সংগ্রহ করুন।
৫. আজীবন দাতা সদস্যদের প্রতি আমাদের কর্তব্য
প্রতিদিন ফজর ও আসরে সূরা ইয়াসিন ও খতমে খাজেগান
প্রতিদিন ফজর ও আসর নামাজের পর সূরা ইয়াসিন ও খতমে খাজেগানের দোয়া পড়ে মাদরাসার শত শত এতিম ও কুরআনের তালিবে ইলমদের নিয়ে আজীবন দাতা সদস্যদের জানমাল, সুস্থতা ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা হয়।
ইন্তেকালের পর জানাজায় অংশগ্রহণ ও পূর্ণ কোরআন খতম
কোনো সম্মানিত সদস্যের ইন্তেকাল হলে মাদরাসার শিক্ষক ও উলামায়ে কেরাম তাঁর জানাজায় অংশগ্রহণের আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। মাদরাসায় সম্পূর্ণ কোরআন খতম করে তাঁর রূহের মাগফিরাত ও পরকালীন শান্তির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
‘আজীবন দাতা সদস্য সনদ’
মাদরাসার পক্ষ থেকে প্রত্যেক সম্মানিত সদস্যকে একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুদৃশ্য প্রাতিষ্ঠানিক ‘আজীবন দাতা সদস্য সনদ’ প্রদান করা হবে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা
মরকুন, তিস্তা গেট–আনোয়ার সিল্ক মিলস সংলগ্ন, টঙ্গী, গাজীপুর
সমাজসেবা রেজি: ঢ-০৫০৪ | বেফাক রেজি: ১/৭৪৩ | হাইআতুল উলয়া রেজি: ০০৬৮৫
এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে, জনাব/মরহুম ........................................... জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার সার্বিক উন্নয়ন ও দ্বীনি শিক্ষার অগ্রযাত্রায় গঠিত মহতী ‘৩১৩ জন বদরি কাফেলা’-এর সম্মানিত আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
"মহান আল্লাহ তাঁর এই দানকে কবুল করুন এবং আখেরাতে বদরি সাহাবিদের সাথে হাশর নসিব করুন। আমিন।"
সিলমোহর
‘বদরি কাফেলা’ আজীবন সদস্য আবেদন
অনলাইনে নিচের তথ্যগুলো পূরণ করে সরাসরি জমা দিন অথবা মাদরাসা কার্যালয়ে এসে ফরম পূরণ করুন।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের আরজগুজার
‘বদরি সদস্য’ হওয়ার আবেদন ফরম এই পুস্তিকার শেষে যুক্ত করা হলো। মৃত ব্যক্তিদের নামেও ফরম পূরণ করা যাবে। মেহেরবানি করে আগ্রহী শুভাকাঙ্ক্ষীরা ফরমটি পূরণ করে মাদরাসার দফতরে জমা দেবেন। মাদরাসার পক্ষ থেকে প্রত্যেক সদস্যকে ‘আজীবন দাতা সদস্য সনদ’ প্রদান করা হবে।
আরজগুজার
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ
জামিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা
মরকুন, তিস্তা গেট–আনোয়ার সিল্ক মিলস সংলগ্ন, টঙ্গী, গাজীপুর, বাংলাদেশ।
জরুরি যোগাযোগ: 01716296379
